Google Logo
১২০ কোটি টাকা ফাঁকির চাঞ্চল্যকর মামলার আসামী মো: মিজানুর রহমান এর দেশ ত্যাগে নিষেধাজ্ঞা আরোপ

মেসার্স মাসটেক্স ইন্ডাস্ট্রিজ লি: কর্তৃক ১২০ কোটি টাকা ফাঁকির চাঞ্চল্যকর মামলার আসামী মো: মিজানুর রহমান এর দেশ ত্যাগে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। এছাড়াও তাকে পাসপোর্ট ইস্যু না করার জন্য পাসপোর্ট অধিদপ্তরে অনুরোধ করা হয়েছে।

২। উপর্যুক্ত প্রতিষ্ঠান কর্তৃক বন্ডেড ওয়্যারহাউস সুবিধার আওতায় আমদানিকৃত পণ্য খোলা বাজারে বিক্রির দায়ে গতকাল ১৫/০৫/২০১৮ ‍খ্রি:  প্রতিষ্ঠানের চেয়াম্যান সৈয়দ আবিদুল ইসলাম এবং ডাইরেক্টর খন্দকার সুরাত আলীকে গ্রেফতারপূর্বক মানি লন্ডারিং আইনে কোতোয়ালি থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। অদ্য ১৬/০৫/২০১৮ খ্রি: তারিখে বিজ্ঞ চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে আসামীদের রিমান্ড শুনানী অনুষ্ঠিত হয়। শুনানীতে বিজ্ঞ আদালত আসামীদের জামিন না মঞ্জুর করে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য শুল্ক গোয়েন্দার অনুকূলে দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন।

০৩। উল্লেখ্য গোপন সংবাদের ভিত্তিতে শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের একটি গোয়েন্দা টিম গত ২০/০৮/২০১৭ খ্র্রি: তারিখ রাত ১:৩০ মিনিটে চট্টগ্রাম থেকে আগত কাভার্ড ভ্যান (ঢাকা মেট্রো ট-১৪-২৮২৩) ইসলামপুর, ঢাকায় পণ্য খালাস করার পূর্বমুহূর্তে গাড়ির চালকের কাছে পণ্যের স্বপক্ষে চালান দেখাতে বললে তিনি পণ্যের স্বপক্ষে বিল অব এন্ট্রি, তানিয়া কার্গো সার্ভিসের ডেলিভারী চালান ও ট্রান্সপোর্ট এজেন্সির চালান প্রদর্শন করেন। দাখিলকৃত বিল অব এন্ট্রি নং-সি-১০৬০১০৫, তারিখঃ ১৭/০৮/২০১৭ খ্রি: পর্যালোচনায় দেখা যায় যে, কাস্টমস বন্ডেড ওয়্যারহাউস সুবিধার আওতায় (আই এম-৭) শুল্কমুক্তভাবে মেসার্স মাসটেক্স ইন্ডাট্রিজ লি:, ৯১, ধউর, থানা রোড, তুরাগ, ঢাকা-১২৩০ নামীয় প্রতিষ্ঠানের অনুকূলে পলি সিনথেটিক ওভেন ফেব্রিক্স পণ্য/কাঁচামাল আমদানি করা হয়।মাসটেক্সের আমদানিকৃত কাঁচামাল কেন ইসলামপুরে আনা হয়েছে, এ বিষয়ে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি জানান যে, কাস্টম হাউস, চট্টগ্রাম থেকে পণ্য বোঝাই করে গাড়িটি প্রথমে প্রতিষ্ঠানের ঠিকানায় নেয়ার জন্য ভাড়া করা হয়। পরবর্তীতে ঢাকার কাছাকাছি আসার পরে ট্রাক বোঝাই কাপড় ইসলামপুর নিয়ে আসার জন্য বলা হলে তিনি ইসলামপুর নিয়ে আসেন। বন্ডেড ওয়্যারহাউস সুবিধার আওতায় আমদানিকৃত পলি সিনথেটিক ওভেন ফেব্রিক্স বিক্রয়ের উদ্দেশ্যে ইসলামপুর আনা হয়েছে মর্মে নিশ্চিত হয়ে শুল্ক গোয়েন্দা টীম উক্ত পণ্যসহ গাড়িটি আটক করে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড, সেগুনবাগিচা নিয়ে আসেন।

৪। শুল্ক গোয়েন্দা কর্তৃক গঠিত ০৬ (ছয়) সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটির মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠালগ্ন অর্থাৎ ০৭/০৪/২০১৪ খ্রি: হতে ২০/০৮/২০১৭ খ্রি: পর্যন্ত আমদানি-রপ্তানিসহ যাবতীয় কার্যক্রম তদন্ত করা হয়। গত ২১.০৮.২০১৭খ্রি: তারিখে আলোচ্য প্রতিষ্ঠানটি সরেজমিনে ইনভেন্ট্রিতে প্রোডাকশন ফ্লোরসহ সর্বমোট ৯২০৬.৯০ কেজি নীট ফেব্রিক্স দেখতে পাওয়া যায়। এ ছাড়া প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষ আর কোন কাঁচামাল দেখাতে পারেননি । প্রতিষ্ঠানের অনুকূলে ইস্যুকৃত ইউডি (ইউডি নং, তারিখ, উৎপাদিতব্য পণ্যের পরিমাণ (পিস), আমদানিতব্য কাঁচামালের পরিমাণ (কেজি)), বিল অব এন্ট্রি (বি/ই নং, তারিখ,আমদানিকৃত কাঁচামালের পরিমান), বিল অব এক্সপোর্ট (বিল অব এক্সপোর্ট নং, তারিখ, রপ্তানিকৃত পণ্যের পরিমাণ  (কেজি, পিস) বিশ্লেষণপূর্বক অবৈধভাবে অপসারণের কারণে ১২০ কোটি টাকার রাজস্ব ফাঁকি তথ্যাদি উদঘাটন করা হয়।

৫। শুল্ক গোয়েন্দার নিয়মিত কাজের অংশ হিসেবে বন্ড সুবিধার আওতায় আমদানিকৃত পণ্যের ব্যবহার বিষয়ে তদন্ত কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে এবং এ ধরণের অভিযান অব্যাহত থাকবে। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের চেয়ারম্যান মহোদয় এতদবিষয়ে জিরো টলারেন্স নীতি ঘোষণা করেছেন।